আমরা যারা চাকরি করি তাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে সহকর্মীর সাথেই। বলতে গেলে পরিবারের চেয়েও বেশি সময় কাটে তাদের সঙ্গে। অফিস যদি দ্বিতীয় পরিবারই হয় সেখানে মান-অভিমান থাকবেই। চাকরি জীবনের প্রতি দিনই বিভিন্ন রকমের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে। এরকম একটি বিষয় হলো অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে না চাইলেও কাজ করা। অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার উপায় জেনে চাকরিটা উপভোগ করার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, এমনটা না পারলে কর্মক্ষেত্রে সফলতা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
পরিবেশ সবসময় আপনার মনের মতন হবে না বরং আপনাকে পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে জানতে হবে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন ও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কাজে আনন্দ পেতে অফিসে সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বিকল্প নেই। হতাশাজনক আচরণ শুধু আপনার ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, সহকর্মীদের জন্যও ক্ষতিকর। মনমরা হয়ে না থেকে উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে; অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে হলেও!
কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন মন মানসিকতার মানুষ থাকে যাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সহকর্মীর আচরণ যতই অপছন্দ হোক, চাকরি ছেড়ে যাওয়া নিশ্চয়ই কোনো দায়িত্বশীল সচেতন মানুষের কাজ নয়। সর্বোপরি সহকর্মীদের সাথে যাদের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ, তারা কাজ করে অনেক বেশি আনন্দ পায়। তাই ডেইলি লাইভের আজকের পোস্টে জেনে নিন— অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।
অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার উপায়
এক মুহূর্তের জন্য সহ্য করুন, বিনয়ী হোন
সহ্যশক্তি ভীরুতার পরিচায়ক নয়, সহ্যশক্তি বীরোচিত একটি গুণ। সহ্যশক্তি দ্বারা অগ্নিশিখাও স্নিগ্ধ পরিচ্ছন্ন পদ্মসরোবরে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। আপনার সহকর্মী যদি নির্দিষ্ট কোনো কাজের ক্ষেত্রে আপনার কথাগুলো ঠিকভাবে না শোনেন বা আপনাকে ততটা গুরুত্ব না দেন, এক্ষেত্রে আপনি বুঝিয়ে বলুন যেন সে গুরুত্ব দেয়। উদ্ধত আচরণ মানুষকে একা করে দেয়। সুতরাং আমরা যখন সহকর্মীর সাথে কাজ করি, তখন যদি সহকর্মীর সঙ্গে কথাবার্তায় বিনয়ী হই এবং সহ্য করতে পারি তবে আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অনুকূল পরিস্থিতিতে নিয়ে আসতে পারব।
⏩ আরও পড়ুন: ক্যারিয়ারের শুরুতে যে ভুলগুলো করবেন না!
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ থাকা
পারস্পরিক শ্রদ্ধায় সুন্দর হয়ে ওঠে সম্পর্ক। অফিসের সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক একইরকম, সহকর্মীদের মধ্যে একে অপরের সম্মানবোধ থাকাটা জরুরি। সহকর্মী অপছন্দের হলেও যেকোনো কাজে তার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিন। অফিসে এ চর্চাটা সহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।
আক্রমণ ক্ষমা করে দিন, ষড়যন্ত্র পরিহার করুন
পরনিন্দা, পরচর্চার অভ্যাস অফিসের পরিবেশকে দূষিত করে তোলে। যখন আপনার কোনো সহকর্মী অন্য সহকর্মীর নামে পেছনে সমালোচনা করবে, আপনি তাতে জড়াবেন না। হতে পারে কোনো সহকর্মী তাদের কাজটি ঠিকভাবে করেনি বা করলেও তাতে অদক্ষতার ছাপ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে কোনোপ্রকার সমালোচনায় জড়াবেন না। কোনো একটি ঘটনা শুনলেই তা পাঁচ কান করার অভ্যাস সহকর্মীদের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়। আমাদের হৃদয়ে দয়ার গুণ থাকা আবশ্যক যাতে অন্যকে যদ্দূর সম্ভব ক্ষমা করে দিতে পারি, যেমন করে আমরা নিজেদের ক্ষমা করি। এভাবে আপনি অফিসে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন। নিজে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সমালোচনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেবেন। মনে রাখবেন, অফিসে আপনার উন্নতি কিন্তু সহকর্মীর মূল্যায়নের ওপরও নির্ভর করে।
নেতিবাচক কথা পরিহার করুন
আপনার সহকর্মী যদি আপনাকে নানাভাবে বিরক্ত করা বা কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কথায় আছে, উচ্ছ্বসিত মুহূর্তের কথা অনির্ভরযোগ্য। আমরা যদি ক্ষণস্থায়ী রাগ নীরবতার মধ্য দিয়ে সহ্য করতে পারি, আমাদের দ্বারা অপ্রয়োজনীয় বাদানুবাদের জন্মও হবে না। তাই যদি আপনি ঘৃণাপূর্ণ কথা পরিহার করতে পারেন, তবে কোনো বাজে ঘটনা ঘটার সুযোগই থাকবে না।
সহকর্মীর ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন, সহযোগিতা করুন
ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অন্যের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং একইসাথে সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া এটি আপনাকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতেও সহায়তা করতে পারে। আপনার সহকর্মীর ইতিবাচক দিকগুলো চিন্তা করে দেখতে পারেন। তাদের ভালো কোনো বৈশিষ্ট্য বা কাজের জন্য প্রশংসা করুন। সে হয়তো তার কাজটি নিজের গতিতে নিজের মতো করে সম্পন্ন করেছে বা হয়তো আপনার সাথে তাল মেলাতে পারছে না। সেক্ষেত্রে তার কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে সেটি গ্রহণ করার মানসিকতা রাখুন, সে যেমন সেভাবেই গ্রহণ করুন। একজন দক্ষ সহকর্মীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সে তার অন্যান্য সহকর্মীকে তাদের মতো করেই গ্রহণ করেন। তারা যেভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন, সেভাবে তাদের দিয়ে কাজটি করিয়ে নেওয়াই হলো অন্যতম কৌশল।
⏩ আরও পড়ুন: কর্পোরেট চাকরিতে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ!
**********
তো প্রিয় পাঠক, এই ছিল— অপছন্দের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আজ এ পর্যন্তই। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং আর্টিকেল সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো থাকুন। ডেইলি লাইভ এর সাথেই থাকুন!




অপছন্দ নিয়ে এগিয়ে যেতে ভালোই কাজে দেবে এই লেখা!